Honey
মধু
মধু হল এক প্রকারের মিষ্টি ও ঘন তরল পদার্থ, যা মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ ফুলের নির্যাস হতে তৈরি করে এবং মৌচাকে সংরক্ষণ করে। এটি উচ্চ ঔষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল ; এটি সুপেয়। সাধারণভাবে বলা যায়- মধু হলো লাখ লাখ মৌমাছির অক্লান্ত শ্রম আর সেবাব্রতী জীবনের দান। মৌমাছিরা ফুলে ফুলে বিচরণ করে ফুলের রেণু ও মিষ্টি রস সংগ্রহ করে পাকস্থলীতে রাখে। তারপর সেখানে মৌমাছির মুখ নিঃসৃত লালা মিশ্রিত হয়ে রাসায়নিক জটিল বিক্রিয়ায় মধু তৈরি হয়। এরপর মুখ হতে মৌচাকের প্রকোষ্ঠে জমা করা হয়। বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতিতে এর ব্যবহারে চিনির চেয়ে এর অনেক সুবিধা রয়েছে। এর বিশিষ্ট গন্ধের জন্য অনেকে চিনির চাইতে মধুকেই পছন্দ করে থাকেন। বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু স্বাদ, রং, হালকা সুগন্ধ এবং ঔষধিগুণাবলীর জন্য প্রসিদ্ধ। সুন্দরবনের বেশীরভাগ মধু কেওড়া গাছের ফুল থেকে উৎপন্ন। সুন্দরবনের মাওয়ালী সম্প্রদায়ের লোকেরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রয় করে জীবন নির্বাহ করে। মধুর অন্য একটি গুণ হল এটি কখন নষ্ট হয় না৷ হাজার বছরেও মধু গুণাগুণ নষ্ট হয় না।
মধু যেভাবে তৈরি হয়
মৌমাছি পুষ্পসুধা সংগ্রহ করে তাদের লালা ও অন্যান্য এনজাইমের সঙ্গে মিশিয়ে চাকে সংরক্ষণ করে। চাকে থাকতে থাকতে মধু পাকতে থাকে। তাই মধু যত পুরানো তার দাম তত বেশি, স্বাদও বেশি। মধুর বিভিন্ন রং ও স্বাদ হতে পারে, যা নির্ভর করে ফুল এবং মৌমাছির প্রজাতির ওপর। এতে থাকতে পারে ৮০ ভাগ পর্যন্ত চিনি আর সর্বোচ্চ ১৮ ভাগ পানি।
মধুর গুনগত বৈশিষ্ট্য
মধুতে থাকে ‘গ্লুটোনিক অ্যাসিড’, যা শরীরে অম্লের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। অপ্রক্রিয়াজাত মধুতে সামান্য পরিমাণে প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও পটাশিয়াম থাকে। এর প্রধান পুষ্টিগুণ হল চিনি। প্রতি টেবিল-চামচে থাকে প্রায় ৬৫ ক্যালরি আর ১৭ গ্রাম চিনি।
মৌমাছি পুষ্পসুধা সংগ্রহ করে তাদের লালা ও অন্যান্য এনজাইমের সঙ্গে মিশিয়ে চাকে সংরক্ষণ করে। চাকে থাকতে থাকতে মধু পাকতে থাকে। তাই মধু যত পুরানো তার দাম তত বেশি, স্বাদও বেশি। মধুর বিভিন্ন রং ও স্বাদ হতে পারে, যা নির্ভর করে ফুল এবং মৌমাছির প্রজাতির ওপর। এতে থাকতে পারে ৮০ ভাগ পর্যন্ত চিনি আর সর্বোচ্চ ১৮ ভাগ পানি।
মধুর গুনগত বৈশিষ্ট্য
মধুতে থাকে ‘গ্লুটোনিক অ্যাসিড’, যা শরীরে অম্লের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। অপ্রক্রিয়াজাত মধুতে সামান্য পরিমাণে প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও পটাশিয়াম থাকে। এর প্রধান পুষ্টিগুণ হল চিনি। প্রতি টেবিল-চামচে থাকে প্রায় ৬৫ ক্যালরি আর ১৭ গ্রাম চিনি।
বাংলাদেশের জাতীয় মধু বোর্ডের সংজ্ঞা অনুযায়ী "মধু হল একটি বিশুদ্ধ পদার্থ যাতে পানি বা অন্য কোন মিষ্টকারক পদার্থ মিশ্রিত করা হয় নাই।" মধু চিনির চাইতে অনেক গুণ মিষ্টি। তরল মধু নষ্ট হয় না, কারণ এতে চিনির উচ্চ ঘনত্বের কারণে প্লাজমোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। প্রাকৃতিক বায়ুবাহিত ইস্ট মধুতে সক্রিয় হতে পারে না, কারণ মধুতে পানির পরিমাণ খুব অল্প। প্রাকৃতিক, অপ্রক্রিয়াজাত মধুতে মাত্র ১৪% হতে ১৮% আর্দ্রর্তা থাকে। আর্দ্রর্তার মাত্রা ১৮% এর নিচে যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ মধুতে কোন জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। পাস্তুরাইয্ড মধুতে মধুর প্রাকৃতিক ঔষধি গুণাবলী হ্রাস পায়।
মধুর ব্যবহার
প্রাচীন গ্রিসের খেলোয়াড়েরা মধু খেযে মাঠে নামতো ; কারণ মধুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ যা যকৃতে গ্রাইকোজেনের রিজার্ভ গড়ে তোলে। রাতে ঘুমানোর আগে মধু খেলে মস্তিষ্কের ক্রিয়াক্ষমতা ভালো থাকে। নিয়মিত মধু পানে রোগ-বালাই হ্রাস পায় কেননা মধু মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ঠাণ্ডায় মধু ভালো কাজ করে ; পেনসিলভেনিয়া স্টেট কলেজের পরীক্ষায় দেখা গেছে বাজারে যত ঔষধ পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এক চামচ মধু। মধুর ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা উচ্চ। মধু হজমে সাহায্য করে। পেটরোগা মানুষদের জন্য মধু বিশেষ উপকারী। প্রাচীন কাল তেকে গ্রিস ও মিশরে ক্ষত সারাইয়ে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০৭-এ সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষত ও জখমের উপশমে মধু ডাক্তারী ড্রেসিং-এর চেয়েও বেশি কার্যকর। অগ্নিদগ্ধ ত্বকের জন্যও মধু খুব উপকারী।
মালয়েশিয়ার তুয়ালাং মধু (Tualang honey) স্ট্যাফ (Staph) রোধে এবং পেপটিক আলসার ও এইচ পিলরি (H. pylori) ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করতে পারে।
খাঁটি মধু চেনার উপায়
Honey Dot Com এর মতামত অনুযায়ীঃ
খাঁটি মধু কিংবা ভেজাল মধু চেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে ল্যাব টেস্ট। এর বাইরে আরেকটি উপায় আনুসরন করা যেতে পারে। তাহলোঃ মধু নিয়ে গবেষণা করেন এবং মধু বিষয়ে সঠিক জ্ঞান রাখেন ও সত্য কথা বলেন, এমন কোনো বাক্তি যদি বলেন মধু খাঁটি বা ভেজাল। তাহলে তার কথায় আস্থা রাখা যায়। এর বাইরে সাধারণ মধু ক্রেতাদের আর কোনো উপায় নাই খাঁটি বা ভেজাল মধু চেনার।
প্রচলিত কিছু ভুল পরীক্ষাঃ
প্রাচীন গ্রিসের খেলোয়াড়েরা মধু খেযে মাঠে নামতো ; কারণ মধুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ যা যকৃতে গ্রাইকোজেনের রিজার্ভ গড়ে তোলে। রাতে ঘুমানোর আগে মধু খেলে মস্তিষ্কের ক্রিয়াক্ষমতা ভালো থাকে। নিয়মিত মধু পানে রোগ-বালাই হ্রাস পায় কেননা মধু মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ঠাণ্ডায় মধু ভালো কাজ করে ; পেনসিলভেনিয়া স্টেট কলেজের পরীক্ষায় দেখা গেছে বাজারে যত ঔষধ পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এক চামচ মধু। মধুর ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা উচ্চ। মধু হজমে সাহায্য করে। পেটরোগা মানুষদের জন্য মধু বিশেষ উপকারী। প্রাচীন কাল তেকে গ্রিস ও মিশরে ক্ষত সারাইয়ে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০৭-এ সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষত ও জখমের উপশমে মধু ডাক্তারী ড্রেসিং-এর চেয়েও বেশি কার্যকর। অগ্নিদগ্ধ ত্বকের জন্যও মধু খুব উপকারী।
মালয়েশিয়ার তুয়ালাং মধু (Tualang honey) স্ট্যাফ (Staph) রোধে এবং পেপটিক আলসার ও এইচ পিলরি (H. pylori) ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করতে পারে।
খাঁটি মধু চেনার উপায়
Honey Dot Com এর মতামত অনুযায়ীঃ
খাঁটি মধু কিংবা ভেজাল মধু চেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে ল্যাব টেস্ট। এর বাইরে আরেকটি উপায় আনুসরন করা যেতে পারে। তাহলোঃ মধু নিয়ে গবেষণা করেন এবং মধু বিষয়ে সঠিক জ্ঞান রাখেন ও সত্য কথা বলেন, এমন কোনো বাক্তি যদি বলেন মধু খাঁটি বা ভেজাল। তাহলে তার কথায় আস্থা রাখা যায়। এর বাইরে সাধারণ মধু ক্রেতাদের আর কোনো উপায় নাই খাঁটি বা ভেজাল মধু চেনার।
প্রচলিত কিছু ভুল পরীক্ষাঃ
- আগুন পরীক্ষা
- পানি পরীক্ষা
- পিঁপড়া পরীক্ষা
- ফ্রিজিং পরীক্ষা
- চুন পরীক্ষা ইত্যাদি
রোগ নিরাময়ে মধুর গুণাগুণ
রোগ নিরাময়ের জন্য মধু কখনো এককভাবে, আবার কখনো ভেষজ দ্রব্যের সঙ্গে মিশ্রিত করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় সফলতার সঙ্গে ব্যবহার হয়ে আসছে। নিম্নে কয়েকটি রোগের চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-
সর্দি, কাশি ও স্বরভঙ্গে
চায়ের সঙ্গে মধু ও আদার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও শ্লেষ্মা রেগের উপশম হয় (১ চামচ মধু + ১ চামচ আদার রস)।
দুই চা চামচের সমপরিমাণ মধু ও বাসকপাতার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও কাশি সেরে যায়।
তুলসী পাতার এক চা চামচ রস ও সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাশি দূর হয়।
সৈন্ধব লবণ, আমলকী, পিপুল, মরিচ ইত্যাদির সঙ্গে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে এক চা চামচ করে খেলে কফ ও স্বরভাঙ্গা ভালো হয়।
খাঁটি মধুর সঙ্গে হরীতকী ও বচচূর্ণ মিশিয়ে লেহন করলে (চেটে খেলে) শ্বাসকষ্টের আশু উপকার পাওয়া যায়।
২ চা চামচ মধু ১ গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে সকালে ও সন্ধ্যায় খেলে সর্দিকাশি দূর হয়।
হালকা গরম জলসহ মধু মিশিয়ে গড়গড়া করলে গায়কদের গলার স্বর বৃদ্ধি পায়। অনেকের মতে, এটা টনিকের মতো কাজ করে।
এক চা চামচ আদার রস এবং এক চা চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধেবেলা খেলে সর্দি সেরে যায় ও খিদে বৃদ্ধিপায়।
আমাশয়ে মধু
রক্ত মিশ্রিত পায়খানা, তৈলাক্ত পায়খানা এবং সঙ্গে পেট কামড়ানি থাকলে তাকে আমাশয় বলে। মধু দিয়ে কিভাবে আমাশয় রোগ নিরাময় করা যায় তা তুলে ধরছি-
কচি বেল ও আমগাছের কচি চামড়া (বাকল) বাটার সঙ্গে গুড় ও মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়ে যায়।
কুল বা বড়ই গাছের ছাল চূর্ণের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়।
৫০০ গ্রাম আতপ চাল ভেজে গুঁড়া করে এর সঙ্গে ১২৫ গ্রাম ঘি, ২৫০ গ্রাম খাটি মধু, ১২৫ গ্রাম চিনি এবং ২০টি সবরি কলা ভালোভাবে মিশিয়ে (চটকে) জ্বালাল দিয়ে খাবার উপযোগী করে ৩/৪ দিন নিয়মিত খেলে সব ধরনের আমাশয় ভালো হয়ে যায়।
অন্যান্য রোগে মধু
শরীরের বাইরের কোন অংশের ক্ষততে মধুর প্রলেপ লাগালে অনেক সময় মলমের চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
পানিতে অল্প মধু মিশিয়ে খেলে পাকস্থলীর ক্ষত সারে।
মৌরির পানিতে মধু মিশিয়ে পান করলে দূষিত বায়ু পেট থেকে বেরিয়ে যায়।
যারা খুব মোটা হচ্ছেন তাদের মেদ কমানোর জন্য মধুর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে খেলে সুফল পাওয়া যায়।
দুর্বল শিশুকে এক ফোঁটা মধু দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খাওয়ালে তার স্বাস্থ্য ভালো হয় ও শক্তি লাভ করে।
এক কাপ দুধে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে রোজ সকালে খেলে শক্তি বৃদ্ধি পায়।
মধুর সঙ্গে গুড়ের রস মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়।
চক্ষু রোগে এক ফোঁটা করে মধু দিনে ৩ বার চোখে লাগাতে হবে।
শিশুদের দৈহিক গড়ন, রুচি বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি ও পেট ভালো রাখার জন্য প্রত্যহ এক চা চামচ মধু গরম দুধ ও গরম পানির সঙ্গে নাশতা ও রাতের খাবারের সঙ্গে দিতে হবে।
আমাশয় ও পাতলা পায়খানা থাকলে গরম পানিতে আড়াই চা-চামচ মধু মিলিয়ে শরবত বানিয়ে বারবার ‘সেবন করতে হবে’।
যক্ষ্মা রোগে বাসক পাতার রস এক চা-চামচ পরিমাণ এক চা-চামচ মধু এবং এক চা-চামচ আদার রস মিশিয়ে কিছু দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
যক্ষ্মা রোগ ভালো হওয়ার জন্য- আধাতোলা পেঁয়াজের রস, ২৫০ গ্রাম ঘি এবং ২৫০ গ্রাম মধু মিশিয়ে একটা পাত্রে রেখে দিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল খেলে এবং প্রতি রাতে শোয়ার সময় চিনি দিয়ে অল্প পরিমাণ গরম দুধ খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে যক্ষ্মা ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ।
রাসূল (সা.) বলেছেন, মধু হৃদপি-কে সতেজ করে। প্রতিদিন হাতের তালুতে অল্প পরিমাণ মধু নিয়ে চেটে খেলে হৃদরোগ থাকে না।
জার্মান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ই কচ বলেছেন, ‘উপযুক্ত ঘাস খেয়ে ঘোড়া যেমন তেজী হয় তেমনি নিয়মিত সকালে এক চা-চামচ করে খাঁটি মধু খেলে হৃদপি- শক্তিশালী হয়। এ ছাড়া মধু আয়ুও বৃদ্ধি করে।’
ডায়রিয়াতে রাসূল (সা.) মধু খাওয়ানোর কথা বলছেন
ডায়রিয়া হলে খয়ের ও দারুচিনির গুঁড়া সমপরিমাণ সামান্য মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। পিপুল ও গোল মরিচের শুকনো গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে কিছু দিন নিয়মিত খেলে পুরাতন উদরাময় ভালো হয়ে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে এক গ্লাস গরম দুধ বা গরম পানিতে ২চা-চামচ মধু মিশিয়ে কয়েকবার খেতে হবে।
সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ
বিপদ সঙ্কুল সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে মধু (সুন্দরবনের তরল সোনা) সংগ্রহ অন্যতম প্রধান জীবিকা। প্রতিবছর সরকারি ভাবে মধু সংগ্রহ করার অনুমতি দেওয়া হয়। (চলে সারা এপ্রিল মাস)। গ্রামবাসী, জেলে-মৌলেরা (মধু সংগ্রহকারী) ৫-৭ জনের দল আলাদা আলাদা বনে যান মহল করতে (মধু সংগ্রহ করা)। যাওয়ার আগে গ্রামে সাড়ম্বরে ‘বনদেবী’ (বনবিবি), দক্ষিণরায়ে’র পুজো, ‘দুখেযাত্রা’র আয়োজন করেন। বাঘের ডেরা থেকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসার জন্য বাড়ির মহিলারা উপবাস করে স্নান করে সুচিবস্ত্রে দেবীর কাছে কান্নাকাটির পর মানত করে হাতে পুরোহিতকে দিয়ে লাল সুতোর মাদুলি-তাবিজ বাঁধিয়ে দেন।
বিদায় বেলায় চোখের জল ফেলা নিষিদ্ধ। ‘প্রিয়জন’ কবে বাড়ি ফিরবেন সেই অপেক্ষায় পরিবারের লোকজন সকাল হলেই নদীর পাড়ে নদীপথ চেয়ে বসে থাকেন। বাড়িতে শোকের ছায়া। পালিত হয় অশৌচ। দেবীর পূজার্চনা, বনে যাওয়া স্বামী-সন্তানের মঙ্গল কামনা ছাড়া সমস্ত রকম আমোদপ্রমোদ বন্ধ থাকে। বাড়ির প্রিয়জন বাড়িতে ফিরে এলে আনন্দে ঢাকঢোল বাজিয়ে জাঁকজমক করে বনবিবি, সত্যনারায়ণের পুজো হয়। কখনও বনের ধারে, কখনও বনে ভিতরে গিয়ে দেবীকে পুজো করা হয়। এদিকে, বাঘের মুখ বাঁধার মন্ত্র জানা একজন গুণীনকে সঙ্গে নিয়ে বনে যান মৌলেরা। বনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে ‘পাঁচ পীর’ (দরিয়াপীর, সত্যপীর, মানিকপীর, কাউরপীর এবং গোরাচাঁদ)-এর নামে ‘বদর বদর’ ধ্বনি দিয়ে সকল দেবতাদের স্মরণ করে আশীর্বাদ নেন।
বনে মধু্র চাক কাটার আগে নদীতে স্নান করে ভিজে পোষাকে কোনও গাছের গোড়ায় গরান পাতার থালা বানিয়ে গুড়ের বাতাসা দিয়ে পুজো করেন। গুণীন জঙ্গল বেঁধে দেওয়ার পর শুরু হয় উড়ন্ত মৌমাছিকে লক্ষ্য করে মৌচাক খোঁজার কাজ। গুণীন গুঁড়িমেরে বসে গাছের ফাঁক থেকে বাঘের গতিবিধির উপর নজর রাখে। সঙ্গীরা নিরাপদে থাকছে কিনা তা জানান দিতে মৌলেরা নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষণ পর পরস্পরকে কু...কু...কু...ধ্বনির শব্দে নিজেদের বেঁধে রাখেন। সাড়া না পাওয়া গেলে ধরে নেওয়া হয় তাঁকে বাঘে টেনে নিয়ে গিয়েছে। কিংবা কোনও বিপদে পড়েছেন তিনি। বেগতিক বুঝে তৎক্ষণাৎ কাজ বন্ধ করে দেন। এলাকাটি বিপজ্জনক বোঝাতে কোমরের লাল গামছা খুলে গাছে বেঁধে চিহ্ন করে ফিরে আসেন গ্রামে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে জীবন বাজি রেখে সঙ্গীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাঘের উপর। মারপিট করে বাঘের সঙ্গে লড়াই করে সঙ্গীকে উদ্ধার করেও আনেন। না পারলে খালি হাতে ফেরেন। সংবাদ দেন বন দফতরকে। এদিকে প্রিয়জন বাঘে আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে সংশ্লিষ্ট গ্রাম ও আশপাশ এলাকাতে। অন্যান্য মধু সংগ্রহকারী দল সেই দিনের মতো কাজ বন্ধ করে দেন। নৌকায় ফিরে রাতে বন দেবী ও দক্ষিণ রায়ের নামে বন্দনা করে সকলের মঙ্গল কামনায় পাতায় মধুর নৈবেদ্য সাজিয়ে পুজো দেন। বাঘে আক্রান্ত মৌয়ালেরা ২০১৩- মৃত ২, ২০১৪- মৃত ১, ২০১৫- ২, ২০১৬- ৪, ২০১৭- ১ {জানুয়ারি পর্যন্ত}।
মতামতঃ Honey Dot Com
রোগ নিরাময়ের জন্য মধু কখনো এককভাবে, আবার কখনো ভেষজ দ্রব্যের সঙ্গে মিশ্রিত করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় সফলতার সঙ্গে ব্যবহার হয়ে আসছে। নিম্নে কয়েকটি রোগের চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-
সর্দি, কাশি ও স্বরভঙ্গে
চায়ের সঙ্গে মধু ও আদার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও শ্লেষ্মা রেগের উপশম হয় (১ চামচ মধু + ১ চামচ আদার রস)।
দুই চা চামচের সমপরিমাণ মধু ও বাসকপাতার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও কাশি সেরে যায়।
তুলসী পাতার এক চা চামচ রস ও সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাশি দূর হয়।
সৈন্ধব লবণ, আমলকী, পিপুল, মরিচ ইত্যাদির সঙ্গে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে এক চা চামচ করে খেলে কফ ও স্বরভাঙ্গা ভালো হয়।
খাঁটি মধুর সঙ্গে হরীতকী ও বচচূর্ণ মিশিয়ে লেহন করলে (চেটে খেলে) শ্বাসকষ্টের আশু উপকার পাওয়া যায়।
২ চা চামচ মধু ১ গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে সকালে ও সন্ধ্যায় খেলে সর্দিকাশি দূর হয়।
হালকা গরম জলসহ মধু মিশিয়ে গড়গড়া করলে গায়কদের গলার স্বর বৃদ্ধি পায়। অনেকের মতে, এটা টনিকের মতো কাজ করে।
এক চা চামচ আদার রস এবং এক চা চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধেবেলা খেলে সর্দি সেরে যায় ও খিদে বৃদ্ধিপায়।
আমাশয়ে মধু
রক্ত মিশ্রিত পায়খানা, তৈলাক্ত পায়খানা এবং সঙ্গে পেট কামড়ানি থাকলে তাকে আমাশয় বলে। মধু দিয়ে কিভাবে আমাশয় রোগ নিরাময় করা যায় তা তুলে ধরছি-
কচি বেল ও আমগাছের কচি চামড়া (বাকল) বাটার সঙ্গে গুড় ও মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়ে যায়।
কুল বা বড়ই গাছের ছাল চূর্ণের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়।
৫০০ গ্রাম আতপ চাল ভেজে গুঁড়া করে এর সঙ্গে ১২৫ গ্রাম ঘি, ২৫০ গ্রাম খাটি মধু, ১২৫ গ্রাম চিনি এবং ২০টি সবরি কলা ভালোভাবে মিশিয়ে (চটকে) জ্বালাল দিয়ে খাবার উপযোগী করে ৩/৪ দিন নিয়মিত খেলে সব ধরনের আমাশয় ভালো হয়ে যায়।
অন্যান্য রোগে মধু
শরীরের বাইরের কোন অংশের ক্ষততে মধুর প্রলেপ লাগালে অনেক সময় মলমের চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
পানিতে অল্প মধু মিশিয়ে খেলে পাকস্থলীর ক্ষত সারে।
মৌরির পানিতে মধু মিশিয়ে পান করলে দূষিত বায়ু পেট থেকে বেরিয়ে যায়।
যারা খুব মোটা হচ্ছেন তাদের মেদ কমানোর জন্য মধুর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে খেলে সুফল পাওয়া যায়।
দুর্বল শিশুকে এক ফোঁটা মধু দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খাওয়ালে তার স্বাস্থ্য ভালো হয় ও শক্তি লাভ করে।
এক কাপ দুধে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে রোজ সকালে খেলে শক্তি বৃদ্ধি পায়।
মধুর সঙ্গে গুড়ের রস মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়।
চক্ষু রোগে এক ফোঁটা করে মধু দিনে ৩ বার চোখে লাগাতে হবে।
শিশুদের দৈহিক গড়ন, রুচি বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি ও পেট ভালো রাখার জন্য প্রত্যহ এক চা চামচ মধু গরম দুধ ও গরম পানির সঙ্গে নাশতা ও রাতের খাবারের সঙ্গে দিতে হবে।
আমাশয় ও পাতলা পায়খানা থাকলে গরম পানিতে আড়াই চা-চামচ মধু মিলিয়ে শরবত বানিয়ে বারবার ‘সেবন করতে হবে’।
যক্ষ্মা রোগে বাসক পাতার রস এক চা-চামচ পরিমাণ এক চা-চামচ মধু এবং এক চা-চামচ আদার রস মিশিয়ে কিছু দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
যক্ষ্মা রোগ ভালো হওয়ার জন্য- আধাতোলা পেঁয়াজের রস, ২৫০ গ্রাম ঘি এবং ২৫০ গ্রাম মধু মিশিয়ে একটা পাত্রে রেখে দিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল খেলে এবং প্রতি রাতে শোয়ার সময় চিনি দিয়ে অল্প পরিমাণ গরম দুধ খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে যক্ষ্মা ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ।
রাসূল (সা.) বলেছেন, মধু হৃদপি-কে সতেজ করে। প্রতিদিন হাতের তালুতে অল্প পরিমাণ মধু নিয়ে চেটে খেলে হৃদরোগ থাকে না।
জার্মান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ই কচ বলেছেন, ‘উপযুক্ত ঘাস খেয়ে ঘোড়া যেমন তেজী হয় তেমনি নিয়মিত সকালে এক চা-চামচ করে খাঁটি মধু খেলে হৃদপি- শক্তিশালী হয়। এ ছাড়া মধু আয়ুও বৃদ্ধি করে।’
ডায়রিয়াতে রাসূল (সা.) মধু খাওয়ানোর কথা বলছেন
ডায়রিয়া হলে খয়ের ও দারুচিনির গুঁড়া সমপরিমাণ সামান্য মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। পিপুল ও গোল মরিচের শুকনো গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে কিছু দিন নিয়মিত খেলে পুরাতন উদরাময় ভালো হয়ে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে এক গ্লাস গরম দুধ বা গরম পানিতে ২চা-চামচ মধু মিশিয়ে কয়েকবার খেতে হবে।
সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ
বিপদ সঙ্কুল সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে মধু (সুন্দরবনের তরল সোনা) সংগ্রহ অন্যতম প্রধান জীবিকা। প্রতিবছর সরকারি ভাবে মধু সংগ্রহ করার অনুমতি দেওয়া হয়। (চলে সারা এপ্রিল মাস)। গ্রামবাসী, জেলে-মৌলেরা (মধু সংগ্রহকারী) ৫-৭ জনের দল আলাদা আলাদা বনে যান মহল করতে (মধু সংগ্রহ করা)। যাওয়ার আগে গ্রামে সাড়ম্বরে ‘বনদেবী’ (বনবিবি), দক্ষিণরায়ে’র পুজো, ‘দুখেযাত্রা’র আয়োজন করেন। বাঘের ডেরা থেকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসার জন্য বাড়ির মহিলারা উপবাস করে স্নান করে সুচিবস্ত্রে দেবীর কাছে কান্নাকাটির পর মানত করে হাতে পুরোহিতকে দিয়ে লাল সুতোর মাদুলি-তাবিজ বাঁধিয়ে দেন।
বিদায় বেলায় চোখের জল ফেলা নিষিদ্ধ। ‘প্রিয়জন’ কবে বাড়ি ফিরবেন সেই অপেক্ষায় পরিবারের লোকজন সকাল হলেই নদীর পাড়ে নদীপথ চেয়ে বসে থাকেন। বাড়িতে শোকের ছায়া। পালিত হয় অশৌচ। দেবীর পূজার্চনা, বনে যাওয়া স্বামী-সন্তানের মঙ্গল কামনা ছাড়া সমস্ত রকম আমোদপ্রমোদ বন্ধ থাকে। বাড়ির প্রিয়জন বাড়িতে ফিরে এলে আনন্দে ঢাকঢোল বাজিয়ে জাঁকজমক করে বনবিবি, সত্যনারায়ণের পুজো হয়। কখনও বনের ধারে, কখনও বনে ভিতরে গিয়ে দেবীকে পুজো করা হয়। এদিকে, বাঘের মুখ বাঁধার মন্ত্র জানা একজন গুণীনকে সঙ্গে নিয়ে বনে যান মৌলেরা। বনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে ‘পাঁচ পীর’ (দরিয়াপীর, সত্যপীর, মানিকপীর, কাউরপীর এবং গোরাচাঁদ)-এর নামে ‘বদর বদর’ ধ্বনি দিয়ে সকল দেবতাদের স্মরণ করে আশীর্বাদ নেন।
![]() |
| সুন্দরবনে মৌয়ালিদের মধু সংগ্রহ |
বনে মধু্র চাক কাটার আগে নদীতে স্নান করে ভিজে পোষাকে কোনও গাছের গোড়ায় গরান পাতার থালা বানিয়ে গুড়ের বাতাসা দিয়ে পুজো করেন। গুণীন জঙ্গল বেঁধে দেওয়ার পর শুরু হয় উড়ন্ত মৌমাছিকে লক্ষ্য করে মৌচাক খোঁজার কাজ। গুণীন গুঁড়িমেরে বসে গাছের ফাঁক থেকে বাঘের গতিবিধির উপর নজর রাখে। সঙ্গীরা নিরাপদে থাকছে কিনা তা জানান দিতে মৌলেরা নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষণ পর পরস্পরকে কু...কু...কু...ধ্বনির শব্দে নিজেদের বেঁধে রাখেন। সাড়া না পাওয়া গেলে ধরে নেওয়া হয় তাঁকে বাঘে টেনে নিয়ে গিয়েছে। কিংবা কোনও বিপদে পড়েছেন তিনি। বেগতিক বুঝে তৎক্ষণাৎ কাজ বন্ধ করে দেন। এলাকাটি বিপজ্জনক বোঝাতে কোমরের লাল গামছা খুলে গাছে বেঁধে চিহ্ন করে ফিরে আসেন গ্রামে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে জীবন বাজি রেখে সঙ্গীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাঘের উপর। মারপিট করে বাঘের সঙ্গে লড়াই করে সঙ্গীকে উদ্ধার করেও আনেন। না পারলে খালি হাতে ফেরেন। সংবাদ দেন বন দফতরকে। এদিকে প্রিয়জন বাঘে আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে সংশ্লিষ্ট গ্রাম ও আশপাশ এলাকাতে। অন্যান্য মধু সংগ্রহকারী দল সেই দিনের মতো কাজ বন্ধ করে দেন। নৌকায় ফিরে রাতে বন দেবী ও দক্ষিণ রায়ের নামে বন্দনা করে সকলের মঙ্গল কামনায় পাতায় মধুর নৈবেদ্য সাজিয়ে পুজো দেন। বাঘে আক্রান্ত মৌয়ালেরা ২০১৩- মৃত ২, ২০১৪- মৃত ১, ২০১৫- ২, ২০১৬- ৪, ২০১৭- ১ {জানুয়ারি পর্যন্ত}।
মতামতঃ Honey Dot Com
![]() |
| সুন্দরবনে মৌয়ালিদের মধু সংগ্রহ |








No comments